admin

কাদিয়ানী সম্প্রদায় কেন মুসলমান নয়- পর্ব ২

ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ প্রসঙ্গ সাংবাদিক ফারাক্লীত সাহেব তার নিবন্ধে ‘নুযূলে মাসীহ’ সম্পর্কেও কিছু নতুন  কথা বলেছেন। এক. নুযূলে মাসীহ তথা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন ও অবতরণের আকিদা খতমে নবুওতের আকিদা পরিপন্থী। কেননা, তিনি যদি শেষ যামানায় আগমন করেন, তাহলে তো তিনিই হবেন শেষ নবী, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহলে শেষ নবী হন কিভাবে? দুই. নুযূলে মাসীহের আকিদা কুরআনের কোথাও নেই। বরং কুরআনে নবীজীকে খাতামুন নাবিয়্যীন বলে নুযূলে মাসীহের আকীদাকেই রদ করে দিয়েছে। তিন.হাদীসের বিদ্যমান কিতাবসমূহের মাঝে ইমাম মালেক (মৃত্যু: ১৭৯ হি.) এর কিতাব ‘মোয়াত্তা’ সর্বপ্রথম লিখিত। এতে নুযূলে মাসীহ সম্পর্কে কোনো হাদীস নেই। সুতরাং শেষ যামানায় নুযূলে মাসীহ হবে বলে যে সমস্ত হাদীস বিভিন্ন কিতাবে এসেছে, মুহাদ্দিসগণকে ধোকা দিয়ে খৃস্টানরা সেগুলি হাদীসের কিতাবে ‘পুশ’ করে দিয়েছে। উল্লেখিত প্রশ্নগুলির বিস্তারিত জবাব দেয়া এখানে উদ্দেশ্য নয়। শুধু নুযূলে মাসীহ সম্পর্কে জরুরি কিছু কথা বলেই ইনশাআল্লাহ আলোচনা শেষ করব। ১. নুযূলে মাসীহের আকিদাকে ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’-এর আকিদার পরিপন্থী সে-ই মনে করতে পারে, যে আরবী ভাষা ও তার শব্দ-মর্ম সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ। আরবী ভাষা অনুযায়ী ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’ এবং ‘আখিরুন নাবিয়্যীন’ তাঁকে বলা হয়,  যিনি (দুনিয়াতে) সবার শেষে নবুওত লাভ করেছেন। যাঁর পর নতুন করে আর কাউকে নবুওত দান করা হবে না। সুতরাং নিঃসন্দেহে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই খাতামুন্নাবিয়্যীন। কারণ তাঁকেই সবশেষে নবুওত দান করা হয়েছে এবং নবুওত দানের সিলসিলা তার উপরই সমাপ্ত হয়েছে। আর ঈসা আলাইহিস সালাম যেহেতু নবুওত লাভ করেছেন নবীজীর জন্মেরও প্রায় পাঁচশত বৎসর পূর্বে, তাই তাঁর পুনরাগমন ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’-এর পরিপন্থী নয়। তিনি আল্লাহ পাকের হুকুমে জীবিত আছেন এবং পুনরায় দ্বীনে মুহাম্মাদীর অনুসারী হয়ে(যেমনটা হাদীস থেকে জানা যায়) দুনিয়াতে আগমন করবেন। তাঁর এ আগমন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ নবী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। তাফসীরের কিতাবসমূহেও ‘খাতামুন নাবিয়্যীন’ শব্দের এই অর্থ স্পষ্টভাবে লেখা আছে। অর্থাৎ নবীজীর পরে কাউকে আর নবী বানানো হবে না। তাফসীরে কাশশাফ,মাদারিকুত তানযীল, রূহুল মাআনী ইত্যাদিতে সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতের তাফসীর দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ। ২. নুযূলে মাসীহের আলোচনা কুরআনে নেই। তাই এ আকিদা গলত! কেমন কথা এটা! সাংবাদিক সাহেবের কথিত সুধীজনেরা ইসলাম সম্পর্কে এতটাই অজ্ঞ যে, তারা জানেই না, দ্বীনের অনেক মৌলিক বিষয় শুধু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এবং কুরআনে না থাকাটা ঐ সকল বিধানের মৌলিকত্ব ও অকাট্যতার জন্য কোনোই বাধা নয়। যেমন ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ। একথা কে না জানে! ঈমানের পর এটা ইসলামের দ্বিতীয় রোকন। অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের কথা কুরআনে কোথাও স্পষ্টভাবে নেই! কখন কোন নামায কত রাকাত কয়টি সিজদা ইত্যাদির কিছুই তো নেই কুরআন মাজীদে। তেমনি কোন হিসাবে যাকাত আদায় করতে হবে তাও নেই কুরআনে। এই সকল বিষয় হাদীস, ইজমা এবং উম্মতের কর্মগত তাওয়াতুর দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। এসকল বিষয়কেও কি কুরআনে নেই বলে অস্বীকার করে দেয়া যাবে? অথচ বাস্তবতা হল, কুরআন মাজীদের একাধিক আয়াত দ্বারা নুযূলে মাসীহ  প্রমাণিত। সে সম্পর্কে এখানে এই মুহূর্তে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই। শুধু এটুকু আরজ করবো, যারা আরবী বোঝেন, তারা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ.-এর ‘আকীদাতুল ইসলাম’ নামক কিতাবখানি অধ্যয়ন করুন। আর যারা উর্দূ বোঝেন তারা মাওলানা মুহাম্মাদ ইবরাহীম শিয়ালকোটীর ‘শাহাদাতুল কুরআন’ পড়ুন। এই দুটি কিতাবে নুযূলে মাসীহ সম্পর্কে কুরআন মাজীদের দলিল নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। আর এই আকিদা বহু হাদীস দ্বারা তাওয়াতুরের সঙ্গে প্রমাণিত। এর উপর রয়েছে উম্মতের ইজমা। (এ সম্পর্কে সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসবে ইনশাআল্লাহ)   ৩. নুযূলে মাসীহ সম্পর্কে সবচে’ প্রাচীন হাদীসের কিতাব মোয়াত্তায় কোনো হাদীস নেই। অতএব সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে এ সম্পর্কে যত হাদীসই আসুক, সবই অগ্রহণযোগ্য! কারণ হাদীসগুলো যদি সহীহ হতো তাহলে ইমাম মালেকের নিকটও পৌঁছতো আর তাহলে তিনি তাঁর কিতাবে সেসমস্ত হাদীস উল্লেখও করতেন! হাদীস সম্পর্কে সাংবাদিক সাহেব এবং তার কথিত গুণীজনদের অজ্ঞতার উপর আক্ষেপ না করে উপায় নেই! তারা মোয়াত্তা কিতাবটির ধরন সম্পর্কেই অনবগত। তারা ভেবেছেন, ইমাম মালেকের নিকট যত হাদীস পৌঁছেছে, সবই মোয়াত্তায় এসে গেছে, আর যা পৌঁছেনি বা তাঁর নিকট সহীহ বলে প্রমাণিত হয়নি, তাই কেবল মোয়াত্তা থেকে বাদ পড়েছে! সুতরাং যে হাদীস মোয়াত্তাতে নেই, সেটাই অগ্রহণযোগ্য! হাদীস শাস্ত্র তো অনেক দূরের কথা, যারা মোয়াত্তার মতো বহুল প্রচলিত হাদীসের কিতাব এবং তার ধরন প্রকৃতি ও আঙ্গিক সম্পর্কে এতটা বেখবর, তারা যে কেন এ সকল দ্বীনি আলোচনায় মত প্রকাশের দুঃসাহস করেন, তা আমাদের বুঝে আসে না। মোয়াত্তা কিতাবখানি যিনি পাঠ করেছেন, তিনিই বুঝতে পারবেন এটি ফিকহের কিতাবের মত শুধু কর্মগত বিধান  সম্পর্কিত হাদীস এবং সাহাবা ও তাবেয়ীগণের ফতোয়াসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন। আদব-আখলাক সম্পর্কেও তাতে কিছু হাদীস রয়েছে। এর ভিতর ঈমান ও আকাইদ শীর্ষক কোনো অধ্যায়ই নেই। তাহলে এই কথা কীভাবে চলতে পারে যে, ইমাম মালেকের সমস্ত হাদীস তাঁর মোয়াত্তাতে এসে গেছে? এ তো ইমাম মালেকের ইলমী মাকাম সম্পর্কে নিতান্ত অজ্ঞতার দলিল। কারণ কেয়ামত-আখেরাত সম্পর্কে যেসমস্ত হাদীস তাওয়াতুরের সঙ্গে প্রজন্ম পরম্পরায় বহু সনদে আমাদের নিকট পৌঁছেছে, সেগুলো যদিও মোয়াত্তায় আসেনি, তবু একথা বলা সম্ভব নয় যে, ইমাম মালেক এ সমস্ত হাদীস জানতেনই না বা এগুলিকে তিনি সহীহ মনে করতেন না! যারা এমন উল্টো মূল্যায়ন করে অভ্যস্ত, তারা আসলে হাদীস শাস্ত্র সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। মোয়াত্তা হল ফিকহের কিতাবের মতো সংক্ষিপ্ত বিষয়স্ত্তর কিতাব। আকাইদ অধ্যায় এর বিষয়বস্ত্ততেই পড়ে না। সুতরাং মোয়াত্তাতে নেই বলে নুযূলে মাসীহ সম্পর্কিত হাদীসের সমস্ত ভান্ডারকে অগ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করা মূর্খতা। আমরা এ সম্পর্কে সামনে কোথাও বিসত্মারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। হাদীস শাস্ত্র সম্পর্কে সাংবাদিক সাহেব এবং তার সহগামী সূধীবর্গের জ্ঞানগরিমার একটা উদাহরণ দিয়ে এ প্রসঙ্গের ইতি টানছি। তিনি লিখেছেন, ‘‘ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি হাদীসকে রদ করে কুরআনের ঘোষণা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, বুখারীর হাদীসে যে সমস্ত বর্ণনাকারী রয়েছেন, তাদের কাউকে অসত্যবাদী আখ্যায়িত করার দ্বারা যদি আল্লাহর মহান নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তাই করা উচিৎ!’’ এ বক্তব্য থেকে বুঝে আসে, ঐ সূধীবর্গের মতে ইমাম আবু হানিফা হলেন ইমাম বুখারীর পরের কোনো ব্যক্তি, যিনি সহীহ বুখারীর কোনো এক হাদীসের একজন বর্ণনাকারীকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করতে চাচ্ছেন। অথচ বাস্তবতা হল, ইমাম আবু হানিফা ইমাম বুখারীর জন্মের প্রায় পঞ্চাশ বছর পূর্বে ইন্তিকাল করে গেছেন। কারণ ইমাম আবু হানিফার মৃত্যু ১৫০হিজরীতে। আর ইমাম বুখারীর জন্মই হয়েছে ১৯৪ হিজরীতে!…

কাদিয়ানী সম্প্রদায় অমুসলিম হওয়ার কারণ

আল্লাহ তাআলার নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ…

কাদিয়ানী সম্প্রদায় কেন মুসলমান নয়- পর্ব ১

এ-নিবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য হলো কাদিয়ানীদের রচিত গ্রন্থাদি থেকে নবুওত-দাবিটির স্বরূপ বিশ্লেষণ করা। কোনো পাঠক যদি মির্জা সাহেবের পুস্তকাদি পড়ে থাকেন, তাহলে…

খতমে নবুওত সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস

হযরত ছাওবান রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমার উম্মতের মধ্য থেকে ত্রিশ জন মিথ্যাবাদী আত্মপ্রকাশ করবে। তাদের প্রত্যেকে নবী বলে দাবী করবে। অথচ আমি খাতামুন্নাবিয়ীন, আমার পরে আর কোনো নবী নেই।’’ … وألا سيكون في أمتي كذابون ثلاثون. كلهم يزعم أنه نبي، وأنا خاتم النبيين لا نبي بعدي، الخ.…

খতমে নবুওয়াত সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস

হযরত ছাওবান রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদী আত্মপ্রকাশ করবে। তাদের প্রত্যেকে নবী বলে…